২য় পর্যায়

প্রকল্পের নাম:  তথ্যআপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ
                 প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায় )।

উদ্যোগী মন্ত্রণালয় : মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

বাস্তবায়নকারী সংস্থা : জাতীয় মহিলা সংস্থা

মেয়াদ  : এপ্রিল ২০১৭ থেকে জুন ২০২৩
জনবল : প্রকল্পের মোট জনবল ২৪৮৪ জন। প্রধান কার্যালয়ে ২৪ জন এবং ৪৯২টি তথ্যকেন্দ্রে ২৪৬০ জন।
প্রাক্কলিত ব্যয় : ৫৮৫৭৬.৬৪ লক্ষ (পাঁচশত পচাশি কোটি ছিয়াত্তর লক্ষ চৌষট্টি হাজার) টাকা।
প্রকল্প এলাকা : প্রকল্পের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। আটটি বিভাগের চৌষট্টিটি জেলার অন্তর্গত চারশত বিরানব্বইটি উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সরকার কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প-২০২১, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) এবং এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রায় নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন দেশের সার্বিক অগ্রগতির অন্যতম শর্ত। নারীর ক্ষমতায়নে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশের গ্রামের অসহায়, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত কিংবা কম সুবিধাপ্রাপ্ত নারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং তাদেরকে তথ্যপ্রযুক্তির সেবা প্রদান নি:সন্দেহে নারীর ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করবে। এ লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক “তথ্যআপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন” শীর্ষক প্রকল্পটি গৃহীত হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় মহিলা সংস্থা কর্তৃক উক্ত প্রকল্পটি ১ম পর্যায়ে ১৩টি উপজেলায় সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতা ৪৯০টি উপজেলায় তৃণমূল নারীদের নিকট পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ০৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদী (মার্চ ২০২২ পর্যন্ত) “তথ্যআপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)” গৃহীত হয়। প্রকল্পটির ১ম সংশোধনীর ফলে প্রকল্প এলাকা ৪৯২টি উপজেলায় সম্প্রসারিত হয়েছে এবং মেয়াদ জুন ২০২৩ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্যসমূহ ঃ
মূল উদ্দেশ্য:  গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবাপ্রদানের
মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন।

সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ঃ
(১) বাংলাদেশের ৪৯২টি উপজেলায় তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা;
(২) তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে ০১ (এক) কোটি গ্রামীণ মহিলাদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা;
(৩) তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ই-কমার্স সহায়তা প্রদান;
(৪) ই-লার্নিং এর মাধ্যমে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দল গঠন করা;
(৫) ওয়েবপোর্টাল, তথ্যভান্ডার, তথ্যআপা আইপিটিভির উন্নয়ন করা।

তথ্য কেন্দ্রঃ

বাংলাদেশের ৪৯২টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে প্রকল্পের আওতায় একটি করে তথ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি তথ্য কেন্দ্রে ০১ জন তথ্যসেবা কর্মকর্তা ও ০২ জন তথ্যসেবা সহকারী তথ্যসেবা প্রদানের কাজে নিয়োজিত আছেন। এরাই প্রকল্প এলাকায় তথ্যআপা” হিসেবে পরিচিত। তথ্যআপারা তথ্যকেন্দ্রে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, উপজেলার সরকারি সেবাসমূহের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ, ভিডিও কনফারেন্স, ই-লার্নিং, ই-কমার্স ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদেরকে সহায়তা করে থাকেন। এছাড়া তথ্যআপারা ল্যাপটপ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকাধীন গ্রামবাসীর বাড়িতে গিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, ব্যবসা, জেন্ডার এবং কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যসেবা প্রদান করেন।

তথ্য সেবাসমূহঃ

  • ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্যসেবা প্রদানঃ তথ্য কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের উপকারভোগীগণকে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেইল, স্কাইপের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া চাকরির খবর, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল, সরকারি বিভিন্ন সেবাসমূহের তথ্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাঃ তথ্যকেন্দ্রসমূহ হতে বিনামূল্যে নিম্নলিখিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাসমূহ প্রদান করা হয়:

  • ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা
  • ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ
  • ডায়াবেটিস পরীক্ষা
  • রক্তে অক্সিজেনের পরিমাপ পরীক্ষা
  • শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা
  • ডোর টু ডোর সেবা প্রদানঃ প্রতিটি তথ্যকেন্দ্রে নিয়োজিত তথ্যসেবা কর্মকর্তা ও তথ্যসেবা সহকারীগণ সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ল্যাপটপ ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, ব্যবসা, জেন্ডার এবং কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেন এবং স্কাইপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তার সাথে সেবাগ্রহীতার কথোপকথনের মাধ্যমে সমস্যার দ্রুত ও কার্যকরী সমাধান প্রদান করে থাকেন।
  • উঠান বৈঠক- মুক্ত আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমঃ তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে তথ্যসেবা প্রদানের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের জন্য উঠান বৈঠক আয়োজন করে গ্রামীণ তৃণমূল মহিলাদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে হচ্ছে। প্রতিটি উঠান বৈঠকে ৫০ জন গ্রামীণ মহিলা অংশগ্রহণ করেন। মাসে প্রতিটি তথ্যকেন্দ্রে ২টি করে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামীণ মহিলাদের জীবন ও জীবিকা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় যেমন: স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বাল্যবিবাহ, ফতোয়া, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, চাকরি সংক্রান্ত তথ্য, আইনগত সমস্যা এবং ডিজিটাল সেবাসমূহের নানাদিক (ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্স) সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। ২৩ জুন ২০২১ তারিখ পর্যন্ত মোট ১৩৪৪৪ টি উঠান বৈঠকে ৬১২৯০০ জন সেবাগ্রহীতাকে সেবা প্রদান করা হয়েছে।
    তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত তথ্যসেবা কর্মকর্তা ও তথ্যসেবা সহকারীগণ উঠান বৈঠকে উপস্থিত গ্রামীণ মহিলাদেরকে উঠান বৈঠকস্থলেই ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে সেবাপ্রাপ্তির পদ্ধতি সরাসরি প্রদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সরকারি আইটি বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ইত্যাদি বিষয়ে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুক্ত আলোচনা করেন। এছাড়া স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা, নারী আইনজ্ঞ, সমাজসেবী, সমাজের নেতৃত্বদানকারী মহিলারাও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যৌতুক নিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা এবং নারীনীতি সম্পর্কে মুক্ত আলোচনা করে থাকেন।

 

ই-কমার্স সহায়তা প্রদানঃ

তথ্যআপা প্রকল্প (২য় পর্যায়) যে ০৫ টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঘোষণা করেছে এর মধ্যে তৃতীয়টি হচ্ছে তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ই-কমার্স সহায়তা প্রদান। এ কথা অনস্বীকার্য যে, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি আনয়নের মাধ্যমেই নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব। এ লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত, কমসুবিধাপ্রাপ্ত দরিদ্র ও অসহায় নারীদের মধ্য থেকে উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য ই-কমার্স পদ্ধতিতে বিক্রয়ের লক্ষ্যে প্রকল্পটির আওতায় লালসবুজ ডট কম (www.laalsobuj.com) নামের একটি ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস চালু করা হয়েছে এবং সে লক্ষ্যেই দেশব্যাপী নারী উদ্যোক্তাদের ই-কমার্সে নিয়ে আসছে লালসবুজ ডটকম। সারাদেশব্যাপী তথ্যআপা প্রকল্পের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স কে প্রত্যন্ত অঞ্চলে তৃণমূল নারীদের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে সারাদেশের প্রতিষ্ঠিত তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত তথ্যআপাদেরকে ই-কমার্স বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষিত তথ্যআপারা উপজেলায় উদ্যোক্তা নির্বাচন, তাদের মোটিভেশন প্রদান, মার্কেটপ্লেসে তাদের নিবন্ধনকরণ ও তাদের পণ্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপন কাজে সহায়তা করছে। তথ্যআপারা ই-কমার্সে গ্রামীণ নারীদের সবরকম সহায়তা প্রদান করছেন। পাশাপাশি কোন নারী ব্যবসার জন্য লাইসেন্স প্রাপ্তির চেষ্টা করলেও তথ্যআপারা সে বিষয়েও তাদেরকে পরামর্শ প্রদান করেন। এক বছরে এক লক্ষের অধিক নারী উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু করেছে লালসবুজ ডটকম। গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাগণ লালসবুজ ডটকম প্ল্যাটফর্মে তাদের পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের এ প্রচেষ্টায় শামিল হয়ে তাদের ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়াকে বেগবান করবেন এটাই প্রত্যাশা।   

লালসবুজ ডট কমের ঠিকানা: https://www.laalsobuj.com

প্রকল্প থেকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধাঃ

তথ্যআপা প্রকল্পের আওতায় তথ্যকেন্দ্র থেকে তথ্যসেবা, ডোর টু ডোর সেবা ছাড়াও প্রকল্প থেকে নির্মিত ওয়েবপোর্টাল, তথ্য ভান্ডার ও আইপি টিভির মাধ্যমে গ্রামীণ মহিলাসহ বাংলাদেশের সকল স্তরের মহিলাদের তথ্যে প্রবেশ ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

ওয়েব পোর্টালঃ

তথ্যআপা প্রকল্প বিষয়ক সার্বিক তথ্য সকলের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে একটি সমৃদ্ধ এবং ইন্টারএ্যাকটিভ ওয়েবপোর্টাল নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজিতে তৈরি এ ওয়েবপোর্টালের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে তথ্যভান্ডার এবং আইপি টিভি। ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী প্রকল্পের সকল বিষয়ে জানতে পারবেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরসহ নারী বিষয়ক বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, তাদের কর্মসূচি ও কার্যক্রমের পরিধি সম্বন্ধে জানার জন্য প্রয়োজনীয় লিংক পাবেন। আরো রয়েছে ব্লগিং ও অনলাইন আবেদনপত্র পেশসহ বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগের ব্যবস্থা।

ওয়েবপোর্টালের ঠিকানা: www.totthoapa.gov.bd

ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমঃ

প্রকল্পের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং মনিটরিং করার সুবিধার্থে একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (MIS) তৈরি করা হয়েছে। MIS টিতে মোট ১২ টি মডিউল রয়েছে। যেমন, (১) Human Resource Management, (২) Attendance Management, (3) Leave Management System, (4) Beneficiary Management System, (5) Payroll Management System, (6) Budget and Accounting Management System, (7) Inventory Management (8) Issue Management, (9) Document Management, (10) Audit Management, (11) Meeting and Event Management এবং (12) User Management System. মডিউলগুলোর মাধ্যমে প্রকল্পের সকল কর্মচারী ব্যবস্থাপনা, তাদের হাজিরা, ছুটি, প্রশিক্ষণ, বেতন-ভাতাদি প্রদান, অন্যান্য উন্নয়নমূলক ব্যয়ের হিসাবরক্ষণ, অডিট, প্রকল্পের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প হেড অফিস ও মাঠ পর্যায়ে গঠিত কমিটিসমূহ, কমিটিসমূহের সভা/অনুষ্ঠানের তথ্য সংরক্ষণ, উপকারভোগীদের তালিকা সংরক্ষণ, তাদেরকে সেবা প্রদান, সেবা প্রদানকালে উদ্ভূত সমস্যা এবং সমাধানকরণ ইত্যাদি কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা করা হয়ে থাকে। ফলে কোন তথ্যকেন্দ্র কবে, কখন কোন সেবাগ্রহীতাকে কোন পদ্ধতিতে কোথায় বসে সেবা প্রদান করেছে তা প্রকল্পের প্রধান কার্যালয় হতে মনিটরিং করা যায়। একইভাবে কোন কর্মচারী কখন অফিসে এসেছে এবং কখন অফিস ত্যাগ করেছে তার তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়। এককথায় এমআইএসকে তথ্যআপা প্রকল্পের একটি ডিজিটাল প্রতিচ্ছবি বলা যেতে পারে।

এমআইএসের ঠিকানা: http://mis.totthoapa.gov.bd

 

 তথ্য ভান্ডারঃ

তথ্যভান্ডারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, জেন্ডার, আইন, ব্যবসা ইত্যাদি এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক তথ্য রয়েছে। এছাড়া তথ্যভান্ডারে টেক্সচুয়াল, অডিও-ভিডিও, অ্যানিমেশন কনটেন্ট রয়েছে। গ্রামীণ ও উপশহরাঞ্চলের মহিলারাই তথ্যভান্ডারের প্রধান সুবিধাভোগী। তবে তথ্যভান্ডারের সেবাগ্রহীতা হতে পারেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তথ্যভান্ডারের ঠিকানা: http://info.totthoapa.gov.bd

আইপি টিভিঃ

প্রকল্পের আওতায় যে ওয়েবপোর্টাল তৈরি করা হয়েছে সেখানে রয়েছে একটি অনলাইন আইপি টিভি। ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে এই টিভি দেখা যায়। নারীর অগ্রযাত্রার প্রতিচ্ছবি এই প্রতিপাদ্যসম্বালিত আইপিটিভিটিতে নারীদের বিভিন্ন সাফল্যগাথা এবং প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ভিডিও চিত্র দেখা যাবে। এই টিভি’তে প্রচারিত প্রোগ্রামসমূহের মূল উপজীব্য হচ্ছে নারী সংক্রান্ত বিষয়াবলি। এখানে ভিডিও এবং স্থিরচিত্রের সংগ্রহশালা রয়েছে।

আইপি টিভির ঠিকানা:  http://iptv.totthoapa.gov.bd

মাইন্ড ইন্সপ্যায়ার টু ন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্টঃ

প্রকল্প এলাকাধীন উৎসাহী মহিলাদের উঠান বৈঠক ও সেল্ফহেল্প গ্রুপের (এসএইচজি) মাধ্যমে সংগঠিত করে ইতোমধ্যে মাইন্ড ইন্সপ্যায়ার টু ন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট দল গঠন করা হয়েছে। “জাতীয় কৃতিত্ব অর্জনে প্রতিশ্রুতিমনা” এ দলের সদস্যগণ আইটিইএস (ITES- Information Technology Enable Services), ই-লার্নিং, মার্চেন্ডাইজিং এবং অন্যান্য কারিগরি কাজে মহিলাদের প্রতীকী জাগরণ হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্প সমাপ্ত হলেও তাদের ইন্টারনেটভিত্তিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা স্থানীয় মহিলাদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে উৎসাহিত করবে। এলক্ষ্যে ইতোমধ্যে তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ শুরু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তাদের জন্য একটি ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া তাদেরকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

 

ই-লার্নিংঃ
মাইন্ড ইন্সপ্যায়ার টু ন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট এবং সেল্ফ হেল্প গ্রুপের সদস্যদেরকে টেক্সচুয়াল, অডিও, ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে ই-লার্নিং প্রশিক্ষণ প্রদান করার জন্য একটি ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। যার ফলে তাদের ITES-এ দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। ই-লার্নিং সিস্টেমে লাইভ ক্লাস, লাইভ ব্রডকাস্ট বক্তৃতা, পূর্ব নির্ধারিত অনলাইন শ্রেণীকক্ষ, ২৪ ঘন্টা ই-লার্নিং চ্যানেল, ভিডিও গ্যালারী,  লাইভ স্ট্রিমিং ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভূক্ত থাকবে।

প্রশিক্ষণঃ
প্রকল্পের আওতায় ৪৯০ টি তথ্যকেন্দ্রের জন্য ৪৯০ জন তথ্যসেবা কর্মকর্তা এবং ৯৮০ জন তথ্যসেবা সহকারী নিয়োগ করা হয়েছে। শুধুমাত্র মহিলা প্রার্থীদের এ পদে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় এরাই তথ্যআপা হিসেবে পরিচিত। প্রথম সংশোধনের ফলে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ০২ টি তথ্যকেন্দ্রের জনবল নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।  নিয়োগপ্রাপ্ত তথ্যসেবা কর্মকর্তা এবং তথ্যসেবা সহকারীগণ যাতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মাঠপর্যায়ে তথ্যসেবা প্রদান করতে পারেন সে লক্ষ্যে আইসিটি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সরকারি বিধি বিধান, হিসাব রক্ষণ, বাজেট নিয়ন্ত্রণ, অফিস ব্যবস্থাপনা ও জেন্ডার ইস্যু ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা এবং নারী অধিকার সংক্রান্ত আইন নীতিমালা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। উপরন্তু তথ্যআপা প্রকল্পের তৃতীয় লক্ষ্য তথ্যকেন্দ্র হতে  ই-কমার্স সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তাদেরকে ই-কমার্স বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস লাল সবুজ ডট কম এ উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন এবং পণ্য আপলোডকরণের জন্য দিনব্যাপি ব্যবহারভিত্তিক ইন্টারএ্যাকটিভ সেশনের আয়োজন ছাড়াও  তাদের জন্য প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।