মন্ত্রণালয় সম্পর্কে

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের মহিলাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ মন্ত্রণালয় গঠনের পটভূমি উল্লেখ করতে হলে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে শুরু করতে হয় ।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লাখো শহীদের আত্মত্যাগ ও জীবনের বিনিময়ে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় এই বাংলাদেশ । এই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে ছিল এ দেশের নারী সমাজ। তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অসামান্য অবদান রেখেছেন ।

স্বাধীনতা পরবর্তী  প্রেক্ষাপটে এ দেশের নারী সমাজের উন্নয়নে তাই নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ । ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় । সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় নারীর অধিকার রক্ষা করা সহ বিভিন্ন বিষয়ে নারীর  প্রতি জোরালো অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে । নারী উন্নয়নে অগ্রযাত্রার প্রথম সোপান হলো প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা,চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ক্রমান্বয়ে নারী উন্নয়নকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে  চিহ্নিত করে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে উদ্যোগ গৃহীত হয় ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ২০২১ সালে রুপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নারী ও শিশুদের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেছেন । বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ নারী ও শিশু। তাদের উন্নয়নও তাই জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। নারী ও শিশুর সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠা,ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ করছে সরকার । মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নারী ও শিশুদের দারিদ্র-বিমোচনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেছে । নারীর ক্ষমতায়ন,নারী নির্যাতন বন্ধ,নারী পাচার বন্ধ,নারী পাচার রোধ, কর্মক্ষেত্রে নারীর সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডের মূল ধারায় নারীর পূর্ণ ও সম অংশ গ্রহন নিশ্চিত করাসহ নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই প্রধান লক্ষ্য । নারীদের ব্যাপক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি,শ্রমবাজারে ব্যাপক অংশগ্রহন নিশ্চিতকরন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মধ্যদিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । নারী উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ, গ্রহন করা হয়েছে নারী উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্প । মন্ত্রণালয়াধীন চারটি প্রতিষ্ঠান যথাঃ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর,জাতীয় মহিলা সংস্থা , বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও জয়িতা ফাউন্ডেশন কর্তৃক গৃহীত হয়েছে বহুমূখী কার্যক্রম। গৃহীত হয়েছে নারী কল্যাণমুখী ও উন্নয়নকারী বিভিন্ন প্রকল্প ।

‘তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন (২য় পর্যায় )’ শীর্ষক প্রকল্পটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় মহিলা সংস্থা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্প । এ প্রকল্পটি সম্পূর্নভাবে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে । প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রকল্পের সকল কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্পাদন করা হয় । মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীভূক্ত প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রতি মাসে মন্ত্রনালয় কর্তৃক পর্যালোচনা করা হয় । মন্ত্রণালয়ের এডিবি সভায় প্রকল্প পরিচালক কর্তৃক তথ্য আপা প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সমস্যা সম্পর্কে তুলে ধরা হয় ।

বেগম মেহের আফরোজ চুমকি, এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, নাছিমা বেগমএনডিসি,সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন।