তথ্য আপা প্রকল্প সম্পর্কে

এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রকল্প যা সম্পূর্নভাবে প্রযুক্তিনির্ভর ও তথ্যনির্ভর। মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক হল মহিলা। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যাদের অবদান বিরাট ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে যে সকল গ্রামীন দরিদ্র মহিলারা ফসল উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন ধান মাড়াই, ধান শুকানো, হাঁস-মুরগী পালন, ক্ষেতে সবজী উৎপাদন, মৎস্য পালন ও গৃহস্থালীর কাজ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে তাদের এই পরিশ্রমের স্বীকৃতি বা মূল্যায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে না। তথ্য প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের এই আধুনিক যুগেও তারা তাদের ভাগ্য উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে থেকে যাচ্ছে সুযোগবঞ্চিত। বিভিন্ন কারনে এই নারী সমাজ পিছিয়ে রয়েছে। আত্মমর্যাদাপূর্ন জীবনযাপন তাদের জন্য এক অভাবনীয় বিষয়। বাংলাদেশে নারীর সমান অধিকার অর্জন, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্তকরণ, নারীর মৌলিক অধিকার রক্ষা, নারীর আইনের অধিকার ইত্যাদি সকল বিষয়ে নারীর অধিকার রক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশের সংবিধানে নারী বিষয়ক যে সমস্ত ধারা রয়েছে তা পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সংবিধান-ই হলো এদেশের নারী উন্নয়নের আইনগত স্বীকৃতি। নারীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করেছে বিভিন্ন পদক্ষেপ ৷আজকের যুগ প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পৃথিবী এখন দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তাই নারীকে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। তথ্যে প্রবেশাধিকার তাদেরকে প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তারা তাদের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তারা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাবে। মহিলাদের তথ্যে প্রবেশাধিকার প্রদান সহ প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে মহিলাদের উন্নয়নের চিন্তাধারা থেকে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশের নারী সমাজকে প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের উন্নয়নের ধারা আরো গতিশীল করে তোলা।

এক নজরে তথ্য আপা প্রকল্প

 প্রকল্পের নাম  তথ্য আপা : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তথ্য যোগাযোগ
 প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প।
 উদ্যোগী মন্ত্রণালয়  মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়
 বাস্তবায়নকারী সংস্থা  জাতীয় মহিলা সংস্থা
 মেয়াদ  জুলাই, ২০১১ থেকে জুন, ২০১৫
 জনবল  প্রকল্পের মোট জনবল ৭৬ জন৷ প্রধান কার্যালয়ে ১১ জন কর্মরত
 রয়েছেন।১৩টি তথ্যকেন্দ্রে মোট ৬৫ জন কর্মরত
 প্রকল্পের মোট বরাদ্দ  ১৩ কোটি ২২ লক্ষ টাকা ৷
 প্রকল্পের হেড অফিস  জাতীয় মহিলা সংস্থা, ১৪৫, নিউ বেইলী রোড, ঢাকা।
 প্রকল্প এলাকা  কালিগঞ্জ(গাজীপুর),ভৈরব(কিশোরগঞ্জ),কোটালিপাড়া (গোপালগঞ্জ),
 মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি),চাটখিল (নোয়াখালী),দেবিদ্বার (কুমিল্লা),
 পত্নীতলা (নওঁগা),মোল্লাহাট (বাঘেরহাট),ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া),
 গৌরনদী (বরিশাল),গবিন্দগঞ্জ (রংপুর),শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার),
 পটুয়াখালি সদর (পটুয়াখালি)

প্রকল্পের উদ্দেশ্যঃ

১. কম সুযোগপ্রাপ্ত মহিলাদের জন্য তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সহজে তথ্যে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
২. তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে নারীর ক্ষমতায়ণ।
৩. নির্বাচিত তেরটি উপজেলায় তেরটি তথ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।
৪. এই তেরটি তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে এক লক্ষ মহিলাকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধকরণ।
৫. একটি ওয়েব পোর্টাল তৈরী করা যেখানে বিষয়বস্তু উপস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে নারী ও শিশু, মহিলা উদ্যোক্তা, মহিলা বিষয়ক সংবাদ, সরকারি বিধি-বিধান, মহিলা বিষয়ক গবেষণা ও প্রকাশনা, আইনী সহায়তা , নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ইত্যাদি।
৬. শুধুমাত্র নারী ও শিশু বিষয়ক সমস্যাদি ও তার প্রতিকার বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা।

প্রকল্পের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনাঃ

তথ্য আপা : প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ১৩ টি উপজেলায় ১৩টি তথ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে । উক্ত তথ্য কেন্দ্র অবশিষ্ট ৪৭৪ টি উপজেলায় প্রতিষ্ঠা করা হলে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক গ্রামীন মহিলা যারা প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত তাদেরকে এই প্রযুক্তি সুবিধার আওতায় এনে মহিলা উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হবে । এছাড়া প্রকল্প কর্তৃক নির্মিত বিভিন্ন সফটওয়্যার যেমন তথ্য ভাণ্ডার , ওয়েব পোর্টাল, উইমেন টিভি, কলসেন্টার এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে নতুন সুবিধা সংযুক্ত করে সেবার মান বৃদ্ধি করা যেতে পারে, নতুন সফটওয়্যার নির্মানের মাধ্যমে মহিলাদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত রাখা যেতে পারে । আত্মকর্মসংস্থানের জন্য মহিলা ফ্রি ল্যান্সার গড়ে তোলার জন্য ট্রেনিং ও আর্থিক সহায়তা মূলক স্কীম হাতে নেয়া যেতে পারে ।