মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় :

   তথ্য আপা : প্রকলপটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন এবং জাতীয় মহিলা সংস্থা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্প । এ প্রকল্পটি সম্পূর্নভাবে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্থবায়ন করা হচ্ছে । প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রকল্পের সকল কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্পাদন করা হয় । মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসুচীভূক্ত প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রতি মাসে মন্ত্রনালয় কর্তৃক পর্যালোচনা করা হয় । মন্ত্রণালয়ের এডিবি সভায় প্রকল্প পরিচালক কর্তৃক তথ্য আপা প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সমস্যা সম্পর্কে তুলে ধরা হয় ।

   মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মেহের আফরোজ চুমকী এম পি  মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন । মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বরত সচিব জনাব তারিক উল ইসলাম এবং জনাব বিকাশ কিশোর দাস,যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন পরিকল্পনা) ।

      মাননীয় প্রতিমন্ত্রী

      সচিব

      অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) 

  এ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের মহিলাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ মন্ত্রণালয় গঠনের পটভূমি উল্লেখ করতে হলে মহান মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস থেকে শুরু করতে হয় ।

   ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লাখো শহীদের আত্নত্যাগ ও জীবনের বিনিময়ে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় এই বাংলাদেশ । এই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে ছিল এ দেশের নারী সমাজ।তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অসামান্য অবদান রেখেছে ।

   স্বাধীনতা পরবর্তী  প্রেক্ষাপটে এ দেশের নারী সমাজের উন্নয়নে তাই নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ । ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় । সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় নারীর অধিকার রক্ষা করা সহ বিভিন্ন বিষয়ে নারীর  প্রতি জোরালো অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে । নারী উন্নয়নে অগ্রযাত্রার প্রথম সোপান হলো প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা,চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ক্রমান্বয়ে নারী উন্নয়নকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে চিন্হিত করে উন্নয়নের মূলধারা সম্পৃক্তকরনের লক্ষ্যে উদ্যোগ গৃহীত হয় ।

   মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ২০২১ সালে রুপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নারী ও শিশুদের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছেন । বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ নারী ও শিশু । তাদের উন্নয়ন ও তাই জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত । নারী ও শিশুর সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠা,ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ করছে সরকার । মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নারী ও শিশুদের দারিদ্র-বিমোচনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেছে । নারীর ক্ষমতায়ন,নারী নির্যাতন বন্ধ,নারী পাচার বন্ধ,নার পাচার রোধ, কর্মক্ষেত্রে নারীর সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডের মূল ধারায় নারীর পূর্ণ ও সম অংশ গ্রহন নিশ্চিত করাসহ নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই প্রধান লক্ষ্য । নারীদের ব্যাপক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি,শ্রমবাজারে ব্যাপক অংশগ্রহন নিশ্চিতকরন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্দ্যোক্তা পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মধ্যদিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । নারী উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত হয়েছে বিভিন্ন উদ্দ্যোগ,গ্রহন করা হয়েছে নারী উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্প । মন্ত্রণালয়াধীন তিনটি প্রতিষ্ঠান যথাঃ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর,জাতীয় মহিলা সংস্থা ও শিশু একাডেমী কর্তৃক গৃহীত হয়েছে বহুমূখী কার্যক্রম। গৃহিত হয়েছে নারী কল্যান মূখী ও উন্নয়নকারী বিভিন্ন প্রকল্প ।

মন্ত্রণালয়ের পরিচালনাধীন প্রকল্প সমূহ :

চলমান প্রকল্প তালিকা :

১. নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ৫টি বিভাগীয় শহরে ভৌত সুবিধাদি সৃষ্টিকরণ ।
২. নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কর্মজীবী মহিলাদের শিশুদের জন্য দিবাযত্ন কর্মসূচী।
৩. জেলা পর্যায়ে মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (WTC) সমূহের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উন্নয়ন।
৪. ফুড এন্ড লাইভলিহুড সিকিউরিটি (এফএলএস) ।
৫. ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে শিশু ও মহিলা কার্ডিয়াক ইউনিট স্থাপন প্রকল্প ।
৬. শহীদ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা প্রশিক্ষণ একাডেমীর উর্ধ্বমূখী সমপ্রসারণ ।
৭. নালিতাবাড়ী উপজেলায় কর্মজীবি মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্প ।
৮. Advancement And Promoting Women’s Rights.
৯. কর্মরত মহিলা গার্মেন্টস শ্রমিকদের আবাসনের জন্য হোস্টেল নির্মাণ, বড় আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা ।
১০. নগর ভিত্তিক মহিলা উন্নয়ন প্রকল্প ।
১১. অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন ।
১২. তথ্য আপাঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন ।
১৩. জাতীয় মহিলা সংস্থা জেলা কমপ্লেক্স ।
১৪. নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম (৩য় পর্ব) ।
১৫. Enabling Environment for Child Rights.
১৬. বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর ৬টি জেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মান ।
১৭. জেলা ভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ (৬৪ জেলা) ।
১৮. ভকেশনাল ট্রেনিং ফর উইমেন ওয়ার্কার ইন ইন্ডাষ্ট্রি ইন বাংলাদেশ ।
১৯. “জেনারেশন ব্রেক থ্রু” এ মাল্টি গ্রোথ এপ্রোচ টু বিল্ডিং হেলদি রিলেশনশিপ ফর প্রাইমারি প্রিভেনশন অফ জেন্ডার বেইজড ভায়লেন্স এন্ড মিটিং এসআরএইচআর নিডস অফ এডোলেজেন্স ইন বাংলাদেশ ।

নতুন প্রকল্প :

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন অনুমোদিত প্রকল্প :

১. জেলা ভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ (৬৪ জেলা)।
২. ভকেশনাল ট্রেনিং ফর উইমেন ওয়ার্কার ইন ইন্ডাষ্ট্রি ইন বাংলাদেশ ।
৩. “জেনারেশন ব্রেক থ্রু” এ মাল্টি গ্রোথ এপ্রোচ টু বিল্ডিং হেলদি রিলেশনশিপ ফর প্রাইমারি প্রিভেনশন অফ জেন্ডার বেইজড ভায়লেন্স এন্ড মিটিং এসআরএইচআর নিডস অফ এডোলেজেন্স ইন বাংলাদেশ ।

প্রস্তাবিত প্রকল্প :

সোনাইমূড়ী, কালীগঞ্জ, আড়াইহাজার, মঠবাড়ীয়া ও পাথরঘাটা উপজেলায় কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ

Investment Component for Vulnerable Group Development Programme

পঞ্চাশ শয্যা বিশিষ্ট মহিলা ও শিশু ডায়াবেটিস এন্ডোক্রাইন ও মেটাবলিক হাসপাতাল স্থাপন, উত্তরা, ঢাকা

মহিলাদের অধিকার রক্ষায় সমন্বিত সহায়তা প্রদান

ভকেশনাল ট্রেনিং ফর উইমেন ওয়ার্কাস ইন আরএমজি ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ

“Generation Break through” A multi-Pronged approach to building healthy relationships for Primary Prevention of Gender Based Violence and meeting SRHR needs of adolescents in Bangladesh

বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর ১২টি জেলা শাখার কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প

আর্লি চাইল্ড কেয়ার এন্ড ডেভেলপমেন্ট সার্পোট প্রজেক্ট

২টি বিভাগীয় শহরে (সিলেট ও বরিশাল) কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল স্থাপন

১০

গার্মন্টসে কর্মরত নারী শ্রমিকদের জন্য কলোনী নির্মাণ বাইপাইল, সাভার

১১

এস্টাবলিস্টমেন্ট অফ কমিউনিটি নাসিং ডিগ্রি কলেজ এট ঢাকা ফর কোয়ালিটি এডুকেশন টু উইমেন ইন নাসিং

১২

মিরপুর ও খিলগাও কর্মজীবী মহিলাদের হোস্টেল উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ ।

১৩

উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প

১৪

জেলা পর্যায়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কমপ্লেক্স নির্মাণ (১ম পর্যায় ০৫টি জেলা)

১৫

মাদক বহনে সংশ্লিস্ট শিশু ও মাদকাসক্ত শিশুদের পূর্ণবাসন

১৬

দরিদ্র অসহায় পরিবারের মেয়ে শিশুদের নিরাপদ আবাসন ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন

১৭

তিন পার্বত্য জেলায় মহিলাদের সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন । ( ১ম পর্যায়ে ২টি জেলা)

১৮

নদী ভাঙ্গন ও আইলা দূর্গত এলাকায় আইজিএ প্রশিক্ষণ এবং প্রডাক্টিভ এসেট বিতরণ ।

১৯

কন্যা শিশুদের জন্য সমন্বিত উন্নয়ন

২০

এম্পাওয়ারমেন্ট অফ উইমেন থ্রু টেকনোলজি ট্রান্সফর

২১

মহিলাদের উন্নয়নে জাতীয় মহিলা সংস্থা জেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)

২২

এস্টাবলিস্টমেন্ট অফ আহসানিয়া মিশন চিলড্রেন সিটি ফর কমপ্রিহ্যানসিভ রিহ্যাবিলিটেশন অফ ডিসট্রেজড্‌ চিলড্রেন

মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বিভাগ :

(১) জাতীয় মহিলা সংস্থা (১৯৭৬)
    ১৪৫,নিউ বেইলী রোড,ঢাকা -১০০০।
    www.jms.gov.bd

(২) বাংলাদেশ শিশু একাডেমী (১৯৭৬)
    হাইকোর্ট এলাকা,ঢাকা -১০০০।
    www.shishuacademy.gov.bd

(৩) মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর (১৯৯০)
    ৩৭/৩,ইস্কাটন গার্ডেন রোড,ঢাকা -১০০০।
    www.dwa.gov.bd

  জাতীয় মহিলা সংস্থা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান । এই প্রতিষ্ঠানটি গঠনের পটভূমি হিসেবে স্বাধীনত্তোর বাংলাদেশের নারী সমাজের দূরাবস্থার প্রেক্ষাপট একটি অন্যতম কারন । স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহনকারী বাংলার অগনিত নারী তাদের অসামান্য অবদান রেখেছেন । তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহন করে এ দেশকে স্বাধীন করেছেন।যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশ এ সকল ক্ষতিগ্রস্থ মহিলাদের পূনর্বাসন করা জরুরী ছিল । স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ নারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে “নারী পুনর্বাসন বোর্ড” গঠনের মাধ্যমে শুরু হয় মহিলাদের প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রযাত্রা । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রক্ষা, বাংলাদেশের সর্বস্তরের মহিলাদের সার্বিক উন্নয়ন ও তাদের অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করার জন্য সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ প্রদান করেন । তৎপ্রেক্ষিতে একটি মহিলা সংস্থার রুপরেখা প্রণীত হয় । যা ১৯৭৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী জাতীয় মহিলা সংস্থা নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ।পরর্বতীতে সংস্থার কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ ও জোরদার করার লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ৪ঠা মে তারিখে ৯ নং আইন বলে জাতীয় মহিলা সংস্থার একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রুপ নেয় ।