২য় পর্যায়

প্রকল্পের নাম:  তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ
                 প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায় )।

উদ্যোগী মন্ত্রণালয় : মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

বাস্তবায়নকারী সংস্থা : জাতীয় মহিলা সংস্থা

মেয়াদ  : এপ্রিল ২০১৭ থেকে মার্চ ২০২২
জনবল : প্রকল্পের মোট জনবল ১৯৭৮ জন। প্রধান কার্যালয়ে ১৮ জন এবং ৪৯০টি তথ্যকেন্দ্রে ১৯৬০ জন।
প্রাক্কলিত ব্যয় : ৫৪৪৯০.৭৪ লক্ষ (পাঁচশত চুয়াল্লিশ কোটি নব্বই লক্ষ চুয়াত্তর হাজার) টাকা।
প্রকল্প এলাকা : প্রকল্পের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। আটটি বিভাগের চৌষট্টিটি জেলার অন্তর্গত চারশত নব্বইটি উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সরকার কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প-২০২১, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) এবং এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রায় নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন দেশের সার্বিক অগ্রগতির অন্যতম শর্ত। নারীর ক্ষমতায়নে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশের গ্রামের অসহায়, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত কিংবা কম সুবিধাপ্রাপ্ত নারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং তাদেরকে তথ্য প্রযুক্তির সেবা প্রদান নি:সন্দেহে নারীর ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করবে। এ লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক “তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন” শীর্ষক প্রকল্পটি গৃহীত হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় মহিলা সংস্থা কর্তৃক উক্ত প্রকল্পটি ১ম পর্যায়ে ১৩টি উপজেলায় সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ৪৯০টি উপজেলায় তৃণমূল নারীদের নিকট পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ০৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদী (মার্চ ২০২২ পর্যন্ত) “তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)” গৃহীত হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্যসমূহ ঃ
মূল উদ্দেশ্য:  গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সেবাপ্রদানের
মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন।

সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ঃ
(১) বাংলাদেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা;
(২) তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে ০১ (এক) কোটি গ্রামীণ মহিলাদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা;
(৩) তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ই-কমার্স সহায়তা প্রদান;
(৪) ই-লার্নিং এর মাধ্যমে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দল গঠন করা।

তথ্য কেন্দ্রঃ

বাংলাদেশের ৪৯০টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে প্রকল্পের আওতায় একটি করে তথ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রতিটি তথ্য কেন্দ্রে ০১ জন তথ্যসেবা কর্মকর্তা ও ০২ জন তথ্যসেবা সহকারী তথ্য সেবা প্রদানের কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এরাই প্রকল্প এলাকায় তথ্য আপা” হিসাবে পরিচিত। তথ্য আপারা তথ্যকেন্দ্রে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, উপজেলার সরকারী সেবা সমূহের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ, ভিডিও কনফারেন্স, ই-লার্নিং, ই-কমার্স ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এছাড়া তথ্য আপারা ল্যাপটপ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকাধীন গ্রামবাসীর বাড়িতে গিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, ব্যবসা, জেন্ডার এবং কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য সেবা প্রদান করবেন।

তথ্য সেবাসমূহঃ

  • ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য সেবা প্রদানঃ তথ্য কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে। প্রকল্পের উপকারভোগীগণকে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেইল, স্কাইপের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সিং সেবা প্রদান করা হবে। এছাড়া চাকরির খবর, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল, সরকারী বিভিন্ন সেবাসমূহের তথ্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।
  • প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাঃ তথ্য কেন্দ্র সমূহ হতে বিনামূল্যে নিম্নলিখিত প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাসমূহ প্রদান করা হবে:
     ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা
     ওজন পরিমাপ
     ডায়াবেটিস পরীক্ষা
  • ডোর টু ডোর সেবা প্রদানঃ প্রতিটি তথ্য কেন্দ্রে নিয়োজিত তথ্যসেবা কর্মকর্তা ও তথ্যসেবা সহকারীগণ সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ল্যাপটপ ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, ব্যবসা, জেন্ডার এবং কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবেন এবং স্কাইপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তার সাথে সেবাগ্রহীতার কথোপকথনের মাধ্যমে সমস্যার দ্রুত ও কার্যকরী সমাধান করবেন।
  • উঠান বৈঠক- মুক্ত আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমঃ তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে তথ্য সেবা প্রদানের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের জন্য উঠান বৈঠক আয়োজন করে গ্রামীণ তৃণমূল মহিলাদের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা হবে। প্রতিটি উঠান বৈঠকে ৪০-৫০ জন গ্রামীণ মহিলা অংশ গ্রহণ করবেন। মাসে প্রতিটি তথ্যকেন্দ্রে ২টি করে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গ্রামীণ মহিলাদের জীবন ও জীবিকা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় যেমন: স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বাল্যবিবাহ, ফতোয়া, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, চাকরি সংক্রান্ত তথ্য, আইনগত সমস্যা এবং ডিজিটাল সেবাসমূহের নানাদিক (ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্স) সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
    তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত তথ্যসেবা কর্মকর্তা ও তথ্যসেবা সহকারীগণ উঠান বৈঠকে উপস্থিত গ্রামীণ মহিলাদের ইন্টারনেট বাস্তব ব্যবহারের মাধ্যমে সেবা প্রাপ্তির পদ্ধতি প্রদর্শন করবেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সরকারি আইটি বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ইত্যাদি বিষয়ে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মুক্ত আলোচনা করবেন। এছাড়া স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা, নারী আইনজ্ঞ, সমাজসেবী, সমাজের নেতৃত্বদানকারী মহিলারাও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যৌতুক নিরোধ আইন, পারিবারিক সহিংসতা এবং নারীনীতি সম্পর্কে মুক্ত আলোচনা করবেন।

প্রকল্প থেকে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধাঃ

তথ্য আপা প্রকল্পের আওতায় তথ্য কেন্দ্র থেকে তথ্য সেবা, ডোর টু ডোর সেবা ছাড়াও প্রকল্প থেকে নির্মিত ওয়েব পোর্টাল, তথ্য ভান্ডার ও আইপি টিভির মাধ্যমে গ্রামীণ মহিলাসহ বাংলাদেশের সকল স্তরের মহিলাদের তথ্যে প্রবেশ ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

ওয়েব পোর্টালঃ

ওয়েবপোর্টালের মূল উপজীব্য হলো নারী। বাংলা ও ইংরেজীতে তৈরি এ ওয়েবপোর্টালের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে তথ্যভান্ডার এবং আইপি টিভি। ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে নারী বিষয়ক বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, তাদের কর্মসূচি ও কার্যক্রমের পরিধি সম্বন্ধে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। আরো রয়েছে ব্লগিং ও অনলাইন আবেদনপত্র পেশসহ বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগের ব্যবস্থা।

ওয়েবপোর্টালের ঠিকানা: www.totthoapa.gov.bd

তথ্য ভান্ডারঃ

তথ্যভান্ডারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, জেন্ডার, আইন, ব্যবসা ইত্যাদি এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক তথ্য রয়েছে। এছাড়া তথ্যভান্ডারে টেক্সচুয়াল, অডিও-ভিডিও, অ্যানিমেশন কনটেন্ট রয়েছে। গ্রামীণ ও উপশহরাঞ্চলের মহিলারাই তথ্যভান্ডারের প্রধান সুবিধাভোগী। তবে তথ্যভান্ডারের সেবাগ্রহীতা হতে পারেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তথ্যভান্ডারের ঠিকানা: http://info.totthoapa.gov.bd

আইপি টিভিঃ

প্রকল্পের আওতায় যে ওয়েবপোর্টাল তৈরি করা হয়েছে সেখানে রয়েছে একটি অনলাইন আইপি টিভি। ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে এই টিভি দেখা যায়। এই টিভি’তে প্রচারিত প্রোগ্রামসমূহের মূল উপজীব্য হচ্ছে নারী সংক্রান্ত বিষয়াবলী। এখানে ভিডিও এবং স্থিরচিত্রের সংগ্রহশালা রয়েছে।

আইপি টিভির ঠিকানা: http://womentv.totthoapa.gov.bd

মাইন্ড ইন্সপ্যায়ার টু ন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্টঃ

প্রকল্প এলাকাধীন উৎসাহী মহিলাদের উঠান বৈঠক ও সেল্ফ হেল্প গ্রুপের (এসএইচজি) মাধ্যমে সংগঠিত করা হবে এবং এরাই হবে মাইন্ড ইন্সপ্যায়ার টু ন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট দলের সদস্য। “জাতীয় কৃতিত্ব অর্জনে প্রতিশ্রুতিমনা” এ সদস্যগণ আইটিইএস (ITES- Information Technology Enable Services), ই-লার্নিং, মার্চেন্ডাইজিং এবং অন্যান্য কারিগরি কাজে মহিলাদের প্রতীকী জাগরণ হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্প সমাপ্ত হলেও তাদের ইন্টারনেটভিত্তিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মহিলাদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে উৎসাহিত করবে।

ই-লার্নিংঃ
মাইন্ড ইন্সপ্যায়ার টু ন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট এবং সেল্ফ হেল্প গ্রুপের সদস্যদেরকে টেক্সচুয়াল, অডিও, ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে ই-লার্নিং প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। যার ফলে তাদের ITES-এ দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। ই-লার্নিং সিস্টেমে লাইভ ক্লাস, লাইভ ব্রডকাস্ট বক্তৃতা, পূর্ব নির্ধারিত অনলাইন শ্রেণীকক্ষ, ২৪ ঘন্টা ই-লার্নিং চ্যানেল, ভিডিও গ্যালারী, মোবাইল টিভি, লাইভ স্ট্রিমিং ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভূক্ত থাকবে।

প্রশিক্ষণঃ
প্রকল্পের আওতায় ৪৯০ টি তথ্য কেন্দ্রের জন্য ৪৯০ জন তথ্য সেবা কর্মকর্তা এবং ৯৮০ জন তথ্য সেবা সহকারী নিয়োগ করা হবে। শুধুমাত্র মহিলা প্রার্থীদের এ পদে নিয়োগ করা হবে। তথ্য আপা হিসেবে এরাই কাজ করবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত তথ্যসেবা কর্মকর্তা এবং তথ্যসেবা সহকারীগণ যাতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মাঠপর্যায়ে তথ্য সেবা প্রদান করতে পারেন সে লক্ষ্যে যথাযথ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তাদেরকে গড়ে তোলা প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আইসিটি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সরকারী বিধি বিধান, হিসাব রক্ষণ, বাজেট নিয়ন্ত্রণ, অফিস ব্যবস্থাপনা ও জেন্ডার ইস্যু ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা এবং নারী অধিকার সংক্রান্ত আইন নীতিমালা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।